এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব সারা দেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিয়া। তাঁর মতে, সরকারের উদ্যোগ, প্রশাসনের সমন্বয় এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় এবারের পূজা উদযাপনে ভিন্ন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ শহরের ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় প্রতিমা বিসর্জনের ঘাট পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সারা বাংলাদেশে এ বছর যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে, তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এমন পরিবেশ তৈরিতে সরকারপ্রধান নিরলসভাবে কাজ করেছেন। সবাই মিলে যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দমুখর পরিবেশে উৎসব পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বছর পূজা উদযাপনে বরাদ্দও আগের তুলনায় বেশি ছিল। অর্থসহ শাড়ি ও চালের মতো সহায়তা দেওয়া হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে পূজার ছুটি বাড়ানোর দাবি ছিল। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ছুটি তিন দিন করেছেন। এর সঙ্গে সরকারি ছুটি মিলিয়ে মোট পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ উৎসব উদযাপনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
উৎসবের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মনিরুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। এ জন্য তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
ঢাকা বিভাগের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বিভাগের ১৩টি জেলাতেই একই ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। ডিআইজিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোথাও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার মতো সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে সমন্বয়ও ছিল সন্তোষজনক।
তিনি আরও বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটলেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে হবে। শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জবাসীও নিজেদের ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হলেও সম্প্রীতির চেতনাকে বিসর্জন দেওয়া যাবে না। এই সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ধরে রেখেই সবাইকে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

