শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে নারায়ণগঞ্জের প্রধান বিসর্জনস্থল ৫ নম্বর ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা। এ সময় তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসবের সমাপ্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ লক্ষ্মী মন্দির, বলদেব মন্দির, চাষাঢ়ার গোপাল জিউর বিগ্রহ মন্দির ও সিদ্ধিগোপাল আখড়াসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। সেখানে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কথা বলে উৎসবের পরিবেশ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজ নেন। পরে তিনি ৫ নম্বর ঘাটের বিসর্জনস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। দীর্ঘদিন ধরে এ দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। দুর্গোৎসবও সেই সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ। সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিমা বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় এবারের দুর্গোৎসবের সমাপ্তি সুন্দরভাবে হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ঢাকা রেঞ্জের কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নারায়ণগঞ্জের পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিসর্জনের সময় নৌ-পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিম সক্রিয় থাকবে।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, ৫ নম্বর ঘাটসহ জেলার বিসর্জনস্থলগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, ক্রেন, নৌকা, ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঘাট এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাইমা ইসলাম ও আলীনুর খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইব্রাহিম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন পরিষদের কর্মকর্তারা।

