ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি বলেছেন, কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে নয়, সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে দেখতে চান তাঁরা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে সাখাওয়াত হোসেন খান নিতাইগঞ্জের প্রজন্ম প্রত্যাশা পূজামণ্ডপ, দেওভোগ আখড়া শ্রীশ্রী রাজা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর মন্দির, রামসীতা পূজামণ্ডপ ও গৌর নিতাই মন্দিরসহ বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখেন। এ সময় পূজার আয়োজন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভক্তদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের বিষয়ে খোঁজ নেন তিনি।
সাখাওয়াত বলেন, পূজামণ্ডপের আয়োজক ও পুরোহিতদের সঙ্গে কথা বলে উৎসবের সার্বিক পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের মণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপিত হচ্ছিল। বিসর্জন পর্যন্ত এ পরিবেশ বজায় থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, এ বছর দুর্গোৎসব ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে সিটি করপোরেশন, প্রশাসন, বিএনপি নেতাকর্মী ও পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে সাখাওয়াত বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনায় হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবাই বাংলাদেশি। ধর্মীয় পার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক ঐক্য ও সম্প্রীতির জায়গা থেকে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বিসর্জন পর্যন্ত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন খান, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী মনির হোসেন, বিএনপি নেতা হাজী কামাল হোসেন ও কবির খান, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম বাবু এবং লক্ষ্মীনারায়ণ বারোয়ারী পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি অজিত সাহা, সাধারণ সম্পাদক বাদল সাহা, কোষাধ্যক্ষ তপন ঘোষ সাধু ও সহকোষাধ্যক্ষ দিলীপ দেসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

