ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের আবেগঘন প্রার্থনার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। কয়েক দিনের আনন্দ-উৎসব শেষে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে গিয়ে ভক্তদের মধ্যে দেখা যায় আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি। উৎসবের সমাপ্তি ঘটলেও সবার মনে রয়ে গেছে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য আর আগামী বছরের অপেক্ষা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে নারায়ণগঞ্জে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ছিল শেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতা। পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, সিঁদুর খেলা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনের উদ্দেশ্যে বের হন ভক্তরা। ঢাকের তালে তালে শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান তাঁরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিয়া, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবির, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শাখাওয়াত হোসেন খান,, জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতায় ভক্তদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। যে দেবীকে ঘিরে কয়েক দিন ধরে পূজা, আরাধনা ও মিলনমেলায় মেতে ছিলেন তাঁরা, বিদায়ের মুহূর্তে সেই প্রতিমাকে শেষবারের মতো প্রণাম জানিয়ে শান্তি, কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করেন। আনন্দের পাশাপাশি অনেকের চোখেমুখে ছিল বিদায়ের বেদনা।
নারায়ণগঞ্জের দুর্গোৎসব ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও প্রতিফলন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি হয়ে ওঠে মিলনমেলায় পরিণত। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক আয়োজন শেষ হলেও সম্প্রীতির এই বন্ধন অটুট রাখার প্রত্যাশা জানিয়েছেন উৎসবে অংশ নেওয়া মানুষজন।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিবছর শরৎকালে দেবী দুর্গার আগমন ভক্তদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করে। পূজা শেষে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানো হলেও ভক্তদের মনে থেকে যায় আগামী বছর আবারও তাঁকে বরণ করে নেওয়ার প্রত্যাশা।
নারায়ণগঞ্জে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। ঢাকের শেষ বাদ্য থেমে গেলেও উৎসবের স্মৃতি, সম্প্রীতির বার্তা আর দেবীর পুনরাগমনের অপেক্ষা রয়ে গেল ভক্তদের হৃদয়ে।

