এক রাতেই নারায়ণগঞ্জের তিনটি এলাকায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিদগ্ধের ঘটনায় অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। আবাসিক ভবন থেকে শুরু করে রাসায়নিক গুদাম—পৃথক এসব ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন কয়েকজন। তাঁদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার ভোরের মধ্যে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর, ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কোথাও গ্যাস সিলিন্ডার, কোথাও পাইপলাইনের গ্যাস এবং অন্য একটি স্থানে রাসায়নিক পদার্থের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।
কাঁচপুরের ঘটনায় একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে। গুরুতর দগ্ধদের হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসা শুরু করা হয়।
ফতুল্লায় একটি রাসায়নিক গুদামে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই শ্রমিক দগ্ধ হন। তাঁদের শরীরের অর্ধেকের বেশি পুড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, শহরের দেওভোগ আখড়া এলাকার একটি আবাসিক ভবনে ভোরের দিকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে একই পরিবারের কয়েকজন দগ্ধ হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালান।
চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজনের দগ্ধ হওয়ার মাত্রা গুরুতর এবং কারও কারও শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পৃথক তিনটি ঘটনায় দুর্ঘটনার ধরন এক না হলেও আবাসিক গ্যাস ব্যবস্থাপনা ও রাসায়নিক পদার্থ সংরক্ষণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গ্যাসের সংযোগে ত্রুটি, সিলিন্ডারের সঠিক ব্যবহার এবং দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণের নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে প্রতিটি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত বক্তব্য পাওয়া গেলে বিস্ফোরণের কারণ ও দায় নির্ধারণে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

