খেলার মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার পরও ব্রাজিলজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নেইমার। ২০২৬ বিশ্বকাপে তাকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে সমালোচনা থামছেই না। এবার সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ব্রাজিলকে প্রথম অলিম্পিক ফুটবল স্বর্ণপদক এনে দেওয়া কোচ রজেরিও মিকালে।
তার দাবি, লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো মর্যাদা ও বিশেষ গুরুত্ব নেইমারও পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, কিন্তু কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে সেই আস্থা দেখাননি।
নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার পর বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেছে। আবেগঘন মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ও জানিয়েছেন নেইমার। তবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল অঙ্গনে এখনো বড় প্রশ্ন—কেন দলের অন্যতম বড় তারকাকে অধিকাংশ সময় বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছিল?
ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিকালে বলেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নেইমারকে সীমিত সময় খেলানো তার কাছে বোধগম্য নয়। তার মতে, শতভাগ ফিট না থাকলেও নেইমারের উপস্থিতি দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হতে পারত।
মিকালে বলেন, আমার কাছে নেইমারই ব্রাজিলের সেরা ফুটবলার। মাঠের ভেতরে এবং বাইরে তার প্রভাব অসাধারণ। সেই কারণেই আনচেলত্তির উচিত ছিল তার ওপর আরও বেশি আস্থা রাখা।
মিশরে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মিকালে জানান, সেখানে মোহাম্মদ সালাহকে কেন্দ্র করেই দলের কৌশল ও পরিকল্পনা সাজানো হতো। তার বিশ্বাস, ব্রাজিলেরও একইভাবে নেইমারকে ঘিরে দল গঠন করা উচিত ছিল। কারণ, পুরোপুরি ফিট না থাকলেও তার ফুটবল মেধা ও সৃজনশীলতা ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে সক্ষম।
মিকালের বক্তব্যকে শক্তি জোগাচ্ছে বিশ্বকাপে নেইমারের সীমিত উপস্থিতির পরিসংখ্যানও। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি খুব কম সময় মাঠে ছিলেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন মাত্র ১৪ মিনিট, আর নরওয়ের বিপক্ষে নেমেছিলেন ২৩ মিনিটের জন্য।
শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমিয়েছিলেন নেইমার, তবে তখন আর ম্যাচে ফেরার মতো সময় ছিল না। ফলে সমর্থকদের মনে এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন—নেইমার যদি শুরু থেকেই মাঠে থাকতেন, তাহলে কি ফল ভিন্ন হতে পারত?
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেও নেইমারকে নিয়ে আশাবাদী মিকালে। তিনি এমনকি ২০৩০ বিশ্বকাপে আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে তাকে দেখতে চান।
মিকালে বলেন, নেইমারকে খেলতে দেখতে আমি নিজের পকেটের টাকা খরচ করে টিকিট কাটতেও রাজি। সে যদি শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকে, তাহলে দলে তার জায়গা নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকার কথা নয়।
তবে বাস্তবতা অনেকটাই কঠিন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের কাছে হারের পর অশ্রুসিক্ত চোখে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান নেইমার। ঘটনাচক্রে, ২০১০ সালে এই একই স্টেডিয়ামেই ব্রাজিলের জার্সিতে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল। যে মাঠে শুরু হয়েছিল তার আন্তর্জাতিক যাত্রা, সেখানেই টানা পড়ে সেই অধ্যায়ের শেষ লাইন।

