নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) রাজস্ব খাতে প্রায় ২০ কোটি টাকা পরিশোধে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে মহানগর বৈধ মিশুক ও রিকশা মালিক সমিতি। তবে এর বিনিময়ে লাইসেন্সবিহীন অটো, মিশুক ও রিকশার অবাধ চলাচল বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন সংগঠনের নেতারা। তাদের মতে, অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে বৈধ মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নগরীর যানজট সমস্যাও আরও প্রকট হবে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নগরীর নতুন চাষাঢ়ায় আরযান আহম্মেদের গ্যারেজ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংগঠনের সভাপতি মো. সুজন মাহমুদ বলেন, রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে বৈধ মিশুক ও রিকশা মালিকরা প্রায় ২০ কোটি টাকা দিতে রাজি আছেন। কিন্তু যেসব অটো, মিশুক ও রিকশার বৈধ লাইসেন্স নেই, সেগুলোকে শহরের প্রধান সড়কে চলাচল করতে দেওয়া হলে বৈধ মালিকদের প্রতি অবিচার করা হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর ভোগান্তি ও যানজটের দায়ও বৈধ পরিবহন মালিকদের ওপর বর্তাবে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ যানবাহনের কারণে বৈধ মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতির মুখে রয়েছেন। তাই প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শানু জানান, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নাসিকের রাজস্ব খাতে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। ২০২৪ সালে ১৭ হাজার ৪৫৩টি যানবাহনের বিপরীতে প্রতিটির জন্য ৮ হাজার ৩৬৫ টাকা হারে প্রায় ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বকেয়া অর্থ যুক্ত করে মোট আদায়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় প্রায় ২০ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, নাসিকের আওতাধীন তিন অঞ্চলে নিবন্ধিত ১৭ হাজার ৪৫৩টি মিশুক ও রিকশার মধ্যে শহর এলাকায় ১০ হাজার ৭৬৫টি, সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলে ৫ হাজার ৯৯৬টি, বন্দর অঞ্চলে ৭১১টি এবং ভিআইপি হিসেবে ১১টি যানবাহন রয়েছে।
রফিকুল ইসলাম শানুর অভিযোগ, তিন অঞ্চলে সর্বোচ্চ আট হাজার যানবাহন চলাচলের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে এক থেকে দেড় লাখ যানবাহন সড়কে চলাচল করছে। এ পরিস্থিতির জন্য নাসিকের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাকে দায়ী করেন তিনি। পাশাপাশি বৈধভাবে নবায়ন ফি পরিশোধের পরও অনেক যানবাহন চলাচলে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। অন্যদিকে একটি অসাধু চক্র জাল লাইসেন্স তৈরি করে বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের উপদেষ্টা আওলাদ হোসেন, ফয়েজ আহমেদ, মো. আব্দুল বাতেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. ইউছুফ চৌধুরী, মো. নাছির আহম্মদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গির বেপারীসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

