নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তাঁর মতে, এ পরিস্থিতিতে দল দুটির ভূমিকা ব্যবসায়ীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ, রহস্যজনক ও হতাশাজনক মনে হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর চাঁদমারি এলাকায় চেম্বার ভবনে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে আয়োজিত জরুরি মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চেম্বার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।
মাসুদুজ্জামান বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকলেও মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগের আগেই যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা অপ্রত্যাশিত। তাঁর দাবি, আন্দোলনের সময় কোনো মালিকপক্ষের মতামত বা সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই বিভিন্ন কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মজুরি বোর্ডের। কিন্তু বোর্ডের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা না করে গত কয়েক দিনে প্রায় ৬৭ থেকে ৬৮টি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এসব ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্র ও ইন্ধন থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই ব্যবসায়ী নেতা। তাঁর ভাষ্য, দেশের অর্থনীতি ও শিল্পের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং সমন্বিত সহযোগিতা প্রত্যাশিত ছিল। শ্রমিকদের আন্দোলন দমিয়ে দেওয়া নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাই ছিল ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য।
মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতে মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীরা আপত্তি করেননি। এবারও বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেবে, মালিকপক্ষ তা মেনে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ব্যবসা পরিচালনায় বিভিন্ন দপ্তরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরে মাসুদুজ্জামান বলেন, এসব ব্যয় কমিয়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা গেলে শিল্প মালিকদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে। তখন শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন খাতে বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যবহার করা যেত।
শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ মালিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে শ্রমিকদের আবাসন, রেশনিং ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংগঠনগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব দেন।
মাসুদুজ্জামান বলেন, সংগঠনগুলোর ব্যাংকে বিপুল অর্থ এফডিআর করে রাখার পাশাপাশি শিল্পের সংকটকালীন সময়ে শ্রমিক ও মালিকদের সহযোগিতায় অর্থ ব্যয় করা উচিত। শ্রমিকদের জন্য ডরমিটরি নির্মাণ, রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিক ভালো থাকলে শিল্প ভালো থাকবে। শ্রমিকদের সুস্থতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদনের মানও বজায় থাকবে। শ্রমিকদের বেতন ২৫ হাজার, ৩০ হাজার নাকি ৩২ হাজার টাকা হবে, তা মজুরি বোর্ড ও সরকার নির্ধারণ করবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীরা সরকারের পাশে থাকবেন।

