নারায়ণগঞ্জে টানা কয়েক দিনের পোশাকশ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলা এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখার প্রচেষ্টায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশন প্রশাসক, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং বিএনপি ও যুবদলের নেতাদের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা ছিল আলোচনায়।
নভেম্বরের শুরুতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শিবু মার্কেট, জালকুড়ি ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এলাকায় ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবীতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় জনজীবন ও শিল্পকারখানার কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের আহ্বান জানান বিএনপির একাধিক নেতা।
এই তৎপরতায় নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদকে শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে দেখা যায়। আন্দোলন চলাকালে তিনি শিবু মার্কেট এলাকায় গিয়ে শ্রমিকদের দাবিদাওয়া শোনেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান। ২ নভেম্বর তাঁর আশ্বাসের পর শ্রমিকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন ।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সক্রিয় ছিলেন। শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীবও তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে মাঠপর্যায়ে তৎপর ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন। মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ফহতে রেজা রিপনও দলীয় পর্যায়ে তৎপরতা চালান।
ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও তাদের শান্ত রাখার প্রচেষ্টায় বিশেষভাবে সক্রিয় ছিলেন জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি। আন্দোলনের দিনগুলোতে সকাল থেকেই তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলা, উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা এবং তাঁদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। একইভাবে ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতা রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী টিটুও স্থানীয় পর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন।
এ ছাড়া মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফহতে রেজা রিপন এবং ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতা রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী স্থানীয় পর্যায়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়, শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং উত্তেজনা এড়াতে তাঁদের তৎপরতা ছিল উল্লেখযোগ্য।
২ ও ৩ নভেম্বরের পোষাক শ্রমিক আন্দোলনের সময় নজরুল ইসলাম আজাদ, সাখাওয়াত হোসেন খান, মাসুকুল ইসলাম রাজীব, আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং যুবদল নেতাদের মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি অনেকটাই আন্দোলন শান্ত করার কাজ করেছে।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় বিএনপির সংসদ সদস্য, নগর নেতৃত্ব, জেলা পর্যায়ের নেতা এবং যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বিত তৎপরতা দেখা গেছে। তাঁদের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল শ্রমিকদের বক্তব্য শোনা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, শিল্পকারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং জনদুর্ভোগ কমানো।

