নারায়ণগঞ্জের পোশাকশিল্পাঞ্চলে টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ঘুরে তিনি দাবি করেন, কোথাও শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনা ঘটেনি এবং কারখানাগুলোতে স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা পঞ্চবটি বিসিক, শিবু মার্কেট, ফতুল্লা, সাইনবোর্ড, সানারপাড় ও আদমজী ইপিজেডসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলগুলোতে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষ বা সড়ক অবরোধের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কারখানাগুলোতে উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। তবে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতি তিন বছর অন্তর নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি ছিল শ্রমিকদের। সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধির নাম পেতে কিছুটা সময় লাগলেও তা পাওয়ার পর বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বোর্ডের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, সিনিয়র জেলা জজ পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত মজুরি বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধি রয়েছেন। মূল্যস্ফীতি, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের কাজ চলছে। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিল্পের পরিবেশ বজায় রাখা সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি পোশাক কারখানার মালিকদের পাশাপাশি শ্রমিক নেতাদের সঙ্গেও সরকারের বৈঠক হয়েছে।
এদিকে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় জেলা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যথেষ্ট ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার বিষয়ে কঠোর অবস্থান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য আহত হয়েছেন। এরপরও তাঁরা সংযম বজায় রেখেছেন। তবে শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো চক্র কারখানায় ভাঙচুর বা নাশকতার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক শ্রমিকদের গুজব ও উসকানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, শিল্পকারখানায় উৎপাদন সচল রাখা শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, শিল্পের স্থিতিশীলতা এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

