নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে বিএনপি সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। জনগণের অধিকার ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা রক্ষা করা না হলে সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভে আয়োজিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন জাবের। এ সময় সংগঠনটির সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে জাবের অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের আগে চাঁদাবাজি ও পেশিশক্তির যে সংস্কৃতি ছিল, তা আবারও ফিরে আসার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড সহ্য করার জন্য জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসেনি।
চাঁদাবাজির পরিমাণ বেড়েছে দাবি করে ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতা বলেন, আগে কোনো ব্যবসায়ীকে ১০০ টাকা চাঁদা দিতে হলেও এখন দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা। একইভাবে পোশাকশিল্পের কোনো ব্যবসায়ী আগে দুই লাখ টাকা দিলেও এখন তাঁকে ১০ লাখ টাকা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি জাবের।
তিনি বলেন, নতুন করে একটি গোষ্ঠী ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতি বন্ধে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জনগণের অধিকার রক্ষায় ইনকিলাব মঞ্চ রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বাধ্য হবে।
নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তাঁর অনুসারীদের প্রসঙ্গ টেনে জাবের বলেন, নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে তাঁদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা মানুষ দেখেছে। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন না করলে শেষ পর্যন্ত জনরোষের মুখে পড়তে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাইয়ের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে জাবের বলেন, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হলে একসময় জনগণই ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। তাঁর ভাষ্য, অতীতের দমন-পীড়ন ও অধিকার হরণের পরিস্থিতিতে দেশকে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
ইনকিলাব মঞ্চের সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি জানান, সংগঠনটির সরাসরি কর্মীসংখ্যা ২০০ থেকে ২৫০ জন হলেও এর বাইরে বিপুলসংখ্যক শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন। উসমান হাদির জানাজায় ১৫ লাখের বেশি মানুষের উপস্থিতির দাবি করে জাবের বলেন, ইনসাফ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে যারা লড়বেন, জনগণ তাঁদের পাশে থাকবে।
বিএনপি সরকারের পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার বিরোধিতা করছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ নয়, বরং সরকার কীভাবে জনগণের অধিকার রক্ষা করছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতা পাঁচ বছরের জন্য, আজীবনের জন্য নয়—এ কথা সরকারকে মনে রাখতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মসূচিতে গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। সনদ বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ ছাড়া জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান জাবের। তাঁর অভিযোগ, শহীদ পরিবারের সদস্যরা এখনো ন্যায়বিচার পাননি। দুই বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও বিচার নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কাউকে বিদেশ থেকে এনে ক্ষমতায় বসানোর জন্য হয়নি। বরং জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত সরকারের লক্ষ্য।
সবশেষে আগামী ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ওসমান হাদি হত্যার বিচারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান জাবের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জনগণ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

