নারায়ণগঞ্জ নগরীতে অটোরিকশা ডাম্পিংয়ের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) বিশেষ মনিটরিং কমিটি। সরকারি রশিদ ছাড়া কোনো চালক বা মালিককে টাকা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অটোরিকশাচালকদের প্রশিক্ষণ, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নির্দিষ্ট পোশাকের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নিবন্ধিত অটোরিকশার লাইসেন্স নবায়ন ও নামজারির কার্যক্রম শেষ করে বৈধ গাড়ির সংখ্যা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় নগর ভবনে নাসিক প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিশেষ মনিটরিং কমিটির যৌথ বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান কমিটির প্রতিনিধি ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা।
তিনি জানান, অটোরিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম যেন কোনো কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে জমা পড়া প্রায় ১ হাজার ৮টি লাইসেন্স চলতি সপ্তাহের মধ্যে নবায়ন করা হবে। পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে নামজারিসহ নিবন্ধনের বাকি কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আবুল কাউসার আশা বলেন, ৫০টির বেশি অটোরিকশার মালিকের প্রায় ১ হাজার ২৮টি আবেদন আপাতত স্থগিত রয়েছে। নগরীর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে এসব আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। টাকা জমা দেওয়ার পরও লাইসেন্স নবায়ন ও নামজারি নিয়ে যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ১৬ হাজার ৬৫টি বৈধ অটোরিকশার হিসাব চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
বৈধ অটোরিকশার সংখ্যা নির্ধারণের পর নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে আলোচনা করে অবৈধ অটোরিকশা চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান মনিটরিং কমিটির এই প্রতিনিধি।
ডাম্পিংয়ের নামে গাড়িপ্রতি ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে আবুল কাউসার আশা বলেন, সরকারি পে-ইন-স্লিপ বা রশিদ ছাড়া কোনো চালক কিংবা মালিক যেন কাউকে টাকা না দেন। অটোরিকশা ডাম্পিংয়ের প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় তা করতে হবে।
মনিটরিং কমিটির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগরবাসীকে সততার সঙ্গে সেবা দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।
এদিকে অটোরিকশাচালকদের দক্ষতা বাড়ানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে ২০০ থেকে ৩০০ চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে নগরীর ১৬ থেকে ১৭ হাজার চালককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পাশাপাশি তাঁদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নির্দিষ্ট পোশাকের ব্যবস্থা করা হবে।
আবুল কাউসার আশা জানান, এ প্রস্তাবে নাসিক প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। শিগগিরই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি, মনিটরিং কমিটির সদস্য আহমেদুর রহমান তনুসহ অন্যরা।

