শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারায়ণগঞ্জের পূজামণ্ডপগুলোর আয়োজক ও প্রতিমাশিল্পীরা। প্রতিমার রং-তুলির শেষ আঁচড়, অলংকার পরানো, মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণ নিয়ে চলছে নানা কর্মযজ্ঞ। উৎসবকে বর্ণিল করে তুলতে দিন-রাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। পূজাকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে শুরু করে সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা, বন্দর ও সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রস্তুতির ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। কোথাও প্রতিমা সাজানোর কাজ চলছে, কোথাও আবার বাঁশ, কাপড় ও বিভিন্ন সাজসজ্জার উপকরণ দিয়ে মণ্ডপকে আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করছেন আয়োজকরা। দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণে কোনো কোনো মণ্ডপে বিশেষ আলোকসজ্জা ও নান্দনিক সাজের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।
দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ প্রতিমা। দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতিমায় রং, অলংকার ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর রং করা, চুল বসানো, পোশাক পরানো এবং অলংকার সংযোজনের মাধ্যমে প্রতিমাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়।
শিল্পীদের জন্য এই সময়টি সবচেয়ে ব্যস্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে তাঁদের বাড়তি শ্রম দিতে হচ্ছে। প্রতিমার সৌন্দর্য ও নিখুঁত কারুকাজ ফুটিয়ে তুলতে প্রতিটি ধাপে রাখতে হচ্ছে সতর্কতা।
প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জাও দুর্গোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। দর্শনার্থীদের জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে আয়োজকেরা সাজসজ্জায় বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছেন। কোথাও ঐতিহ্যবাহী নকশা, কোথাও আধুনিক আলোকসজ্জা ও নান্দনিক সাজের সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে।
মণ্ডপের প্রবেশপথ, আশপাশের এলাকা ও দর্শনার্থীদের চলাচলের জায়গা গোছানোর কাজও প্রস্তুতির অংশ। উৎসবের দিনগুলোতে যাতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন, সে বিষয়টি মাথায় রেখে পরিকল্পনা করছেন আয়োজকেরা।
উৎসবের প্রস্তুতির পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো, বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা, অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়ার পথ সচল রাখা প্রয়োজন। মণ্ডপ কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব বণ্টন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমাশিল্পী, আয়োজক, ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে তৈরি হয় বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য। পূজার সামগ্রী, ফুল, পোশাক ও সাজসজ্জার উপকরণ ঘিরে স্থানীয় বাজারেও ব্যস্ততা বাড়তে পারে। তবে এ বছরের বাজার পরিস্থিতি ও বিক্রির চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বক্তব্য প্রয়োজন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রতিমা ও মণ্ডপসজ্জার সব কাজ যথাসময়ে শেষ হবে এবং দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারবেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের প্রত্যাশা তাঁদের।
সব মিলিয়ে, প্রতিমার সাজ, মণ্ডপের সৌন্দর্য ও আলোকসজ্জার শেষ ছোঁয়ায় দুর্গোৎসবকে বরণ করার প্রস্তুতি চলছে নারায়ণগঞ্জে। এখন আয়োজকদের প্রধান লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করে উৎসবের দিনগুলোতে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

