ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গার্মেন্টসের ঝুট দখল নিয়ে গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ যুবকের বাবা বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হোসেন খোকা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনিসহ ৩৭ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও ২৫ জনকে অজ্ঞাত দেখানো হয়েছে।
রোববার দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় রনি ছাড়াও উল্লেখিত অন্য আসামিরা হলেন- এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সারজিল আহম্মেদ অভি (৩০), আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ প্রধান (৫২), আব্দুস সালাম (৪০), আকাশ (২৮), সুমন মোল্লা রকেট (৪৩), খায়রুল কবির জসিম (৫৫), ইয়াসিন (২৮), আলী রতন (৩৮), মুরাদ হাসান (৩৮), আদনান আজিজ প্রান্ত (৩২) ও পল্লব (৪৫)।
গুলিবিদ্ধ রাকিবের বাবা এনায়েতনগর ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তার ছেলে রাকিবুল হাসান রাকিব (২৩) পড়াশোনার পাশাপাশি এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসা করে আসছিলেন। চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত বেষ্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড নামীয় একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে ওয়েস্টিজ মালামাল নামানো নিয়ে কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
৯ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গার্মেন্টসটির সামনে লোকজন জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে বাদী ঘটনাস্থলে যান। এ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় অভিযুক্তরা আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি, রামদা, ছোরা, চাকু, লোহার রড, কাঠের লাঠি ও ককটেলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে অবরোধ করে এবং টানা-হেঁচড়া করে বাইরে এনে এলোপাতাড়ি মারধর করেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েকজন আসামি পিস্তল ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্তরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়, এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বাবার ওপর হামলার খবর পেয়ে তার ছেলে রাকিবুল হাসান রাকিব ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলি তার বুকের ডানপাশে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় পথচারী ইমরান (১৩) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রও গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে তার স্বজনরা চিকিৎসা দিয়েছেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা গার্মেন্টস থেকে ওয়েস্টিজ মালামাল নামাতে না পেরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও মালিকপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, একপক্ষ মামলা করেছে আবার অপর পক্ষও অভিযোগ দায়ের করেছে। আমরা বিভিন্নভাবে তদন্তের মাধ্যমে মূল অপরাধীদের ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেই সঙ্গে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।

