নারায়ণগঞ্জকে শুধু সমস্যা, সংকট ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন না করে জেলার শিল্প, অর্থনীতি, ঐতিহ্য ও উন্নয়নের সম্ভাবনাগুলোকেও সমানভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ জেলার জন্য ভবিষ্যতমুখী একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের সময় এসেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় নগরীর চাষাঢ়ায় বিকেএমইএ ভবনের সম্মেলন কক্ষে নারায়ণগঞ্জ গ্র্যাজুয়েটস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন ভাবনা ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, অনেক সময় নারায়ণগঞ্জের নাম এলেই যানজট, জলাবদ্ধতা, মাদক, কিশোর গ্যাং কিংবা অব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোই বেশি আলোচনায় আসে। কিন্তু দেশের রপ্তানি আয়, শিল্পায়ন, তৈরি পোশাক খাত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নারায়ণগঞ্জের যে অসামান্য অবদান রয়েছে, সেটিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “সমস্যা অবশ্যই আছে, তবে সম্ভাবনাও কম নয়। শুধু সমালোচনা করলে হবে না, উন্নয়নের ইতিবাচক দিকগুলো সামনে এনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
নগরীর দীর্ঘদিনের ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা সমস্যার কথা উল্লেখ করে এনডিএ চেয়ারম্যান বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল-নদী দখল এবং অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে এ সংকট আরও জটিল হয়েছে। সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবৈধ পার্কিং, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের সংস্কৃতি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। এ সমস্যা নিরসনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
মাদক, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এসব সমস্যা শুধু নারায়ণগঞ্জের নয়; এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি চ্যালেঞ্জ। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।
শিক্ষার মান ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক সম্পর্ক, পারিবারিক শিক্ষা এবং সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা জোরদার করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের আগামী ২৫ থেকে ৫০ বছরের উন্নয়নকে সামনে রেখে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই পরিকল্পনায় নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা নগরীর যানজট, নদী দূষণ, জলাবদ্ধতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও শিল্প খাতের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
নারায়ণগঞ্জ গ্র্যাজুয়েটস অ্যাসোসিয়েশন ও বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মঈন আহসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশাসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

