নারায়ণগঞ্জের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় অংশই নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। চিকিৎসকের পরামর্শের পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষার বেশিরভাগই সরকারি হাসপাতালে না হওয়ায় রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল ঘিরে সক্রিয় দালালচক্র রোগীদের নির্দিষ্ট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে কমিশনভিত্তিক টেস্ট-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। একই সঙ্গে জেলার প্রধান সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা ও বিশেষায়িত সেবার সংকট থাকায় অনেক মুমূর্ষু রোগীকেও ঢাকায় রেফার করা হচ্ছে।
এদিকে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে অপ্রয়োজনীয় সিজার ও অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভিযোগও বাড়ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কঠোর তদারকি, কমিশনভিত্তিক চিকিৎসা সংস্কৃতি বন্ধ এবং সরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। তা না হলে চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

