ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারী আইনজীবীকে লাঞ্ছনার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সামছুন নূর বাঁধন। তিনি বলেন, আইন পেশায় নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে তুমুল বাকবিতণ্ডার জেরে এক নারী আইনজীবীকে মারধর ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন আইনজীবী জানান, আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে বসা দুই নারী হকারকে অন্যত্র সরিয়ে দিতে বলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে অ্যাডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পীর সঙ্গে অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুও ঘটনাটিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নারী আইনজীবীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করেই ভবনের সামনে বসা দুই নারী হকারকে কিছুটা দূরে গিয়ে বসতে বলেছিলেন অ্যাডভোকেট শিল্পী। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অ্যাডভোকেট টিপু তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অ্যাডভোকেট টিপু তাঁর দিকে আইনজীবীদের ব্যবহৃত একটি মোটা ডায়েরি ও ব্যাগ ছুড়ে মারেন। একই সঙ্গে অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদও তাঁকে মারতে তেড়ে আসেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় উপস্থিত অন্যান্য আইনজীবীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, অ্যাডভোকেট টিপু প্রায়ই সহকর্মী আইনজীবীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে থাকেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও পরিকল্পিত অভিযোগ। আইনজীবী সমিতির সামনে দুই অসহায় নারী রুটি ও জুস বিক্রি করেন। তাঁদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা শুধু এর প্রতিবাদ করেছি। কাউকে মারধর করা হয়নি।” তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

