নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারিতে ছানাউল্লাহ সরকারি নিহত হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলায় আক্তার সরকার (৪৫) নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নাজমুন নাহার সুমি আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ।
দণ্ডপ্রাপ্ত আক্তার সরকার রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের দিগুলিয়ারটেক গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ সরকারের ছেলে। মামলার অপর দুই আসামি মাকসুদা বেগম ও শামীমাকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার নথি ও আদালত পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ছানাউল্লাহ সরকারি (৩৩) একই গ্রামের সাত্তার সরকারের ছেলে। নিহত ও আসামিরা পরস্পরের প্রতিবেশী ছিলেন। তাদের মধ্যে জমি নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় সামান্য তর্ক-বিতর্ককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ছানাউল্লাহকে বাঁশের লাঠি ও টেঁটা দিয়ে আঘাত করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরদিন নিহতের স্ত্রী মোসলেমা বেগম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল পুলিশ তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে আক্তার সরকারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপর দুই আসামি মাকসুদা বেগম ও শামীমাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালত পুলিশ জানিয়েছে, রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আক্তার সরকারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

