ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ জেলার চারজন বিএনপি সমর্থিত সংসদ সদস্যের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া। প্রথমবারের মত সংসদ সদস্যর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জনসংযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তায় তিনি জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে আলোচিত হয়ে উঠেছেন।
রূপগঞ্জ আসনের প্রতিনিধি হলেও তিনি নিজেকে কেবল একটি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সামাজিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক সম্প্রীতি রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখায় তাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা বাড়ছে।
বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান, উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি, তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধকরণ এবং মাঠপর্যায়ে সরাসরি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তিনি জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলাকে বর্তমান ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন দিপু ভুইয়া। জেলার সার্বিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক গুরুত্ব, শিল্পায়ন এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে নেওয়ার দাবি এখন বিভিন্ন মহলে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
দেশের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে নারায়ণগঞ্জ বহু বছর ধরেই জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তৈরি পোশাক শিল্প, নৌবন্দর, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে জেলার গুরুত্ব প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেলেও প্রশাসনিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো এটি ‘বি’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। এতে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, অবকাঠামোগত বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই প্রেক্ষাপটে দিপু ভুইয়া বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ, গণসংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, নারায়ণগঞ্জকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা হলে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত হবে এবং নাগরিকরা অধিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
সম্প্রতি সরকারি তোলারাম কলেজের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
“সরকারি তোলারাম কলেজের প্রতিটি ইট ও কক্ষে ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। এই কলেজ থেকে বহু নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। আমি এই কলেজের শিক্ষার্থী না হলেও কলেজটির ঐতিহ্য আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে।”
তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জেলার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে একজন দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন।
এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সভা, জনসংযোগ কার্যক্রম, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে সরাসরি অংশগ্রহণ তাকে অন্যদের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান করে তুলেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা রয়েছে। সেই জায়গায় নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান নিজের অবস্থান শক্ত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
রূপগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার নানা উদ্যোগ নিয়েও তিনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশ বলছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের কাছে যেতে হলে মাঠমুখী রাজনীতির বিকল্প নেই। সেই জায়গা থেকে মোস্তাফিজুর রহমান নিয়মিত জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছেন।
রাজনৈতিক সচেতন মহলের ধারণা, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন এ তরুণ সংসদ সদস্য। উন্নয়ন, জনসংযোগ এবং সক্রিয় রাজনৈতিক উপস্থিতির কারণে বর্তমানে জেলার চার সংসদ সদস্যের মধ্যে তিনি অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন।

