ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ গত কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহের কারণে দেশব্যাপী কমেছে তাপমাত্রা। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জেও বেড়েছে শীতের তীব্রতা। শীতের হিমেল হাওয়া আর তার সঙ্গে যোগ হওয়া ঘন কুয়াশার কারণে নগরীতে জেঁকে বসেছে শীত। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। শীত থেকে বাঁচতে ছুটছেন নগরীর ফুটপাতসহ গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে গরম কাপড়ের বেচাকেনা।
নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় বড় বিপণি বিতানসহ বিভিন্ন অলি-গলিতে গরম পোশাক বিক্রির ধুম পড়েছে। বিশেষ করে জ্যাকেট, সোয়েটার, ক্যাপ, মোজাসহ শীতের হরেক রকম পোশাক বেচাকেনায় ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা। শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে কম দামে গরম পোশাক কিনতে ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। এসব দোকান থেকে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকার মধ্যে নানা ধরনের শীতের পোশাক কিনছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ভ্যানে করে পুরনো গরম কাপড় বিক্রির ধুম পড়েছে। এখানে ক্রেতার ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। সন্ধ্যার পর থেকে দোকানগুলোতে পা ফেলার জায়গা থাকে না। খুব অল্প দামের মধ্যে পুরনো সোয়েটার, জ্যাকেট, ফুলহাতা গেঞ্জি, মোজা, মাফলার পাওয়া যায়। এসব পোশাক থেকেই বাছাই করে নিজেদের চাহিদা মতো পোশাক কিনছেন স্বল্পআয়ের মানুষ।
(২৭ ডিসেম্বর) শনিবার নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া থেকে ২নং রেল গেইট পর্যন্ত ফুটপাত ও শপিং মলে এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নিম্নবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষেরাও শীতবস্ত্র কিনতে ফুটপাতের দোকানে ভিড় করছেন। শীতের জ্যাকেট, চাদর, গেঞ্জি, হুডি, মাফলার, পুরনো কমফোর্টার, হাতমোজা, কান-টুপিসহ সবধরনের শীতবস্ত্রই মিলছে এসব দোকানে। অনেক দোকানে আবার শুধুই শিশুদের শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে।
চাষাড়া এলাকার ফুটপাতে শীতবস্ত্র বিক্রি করেন রিয়াদুল ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করেই সংসার চালাই। শীতের মৌসুম চলছে, তাই শীতবস্ত্র বিক্রি শুরু করেছি। গতবছরের অনেক শীতের কাপড় রয়ে গেছিল।
এই বিক্রেতা আরও বলেন,গত তিন ধরে শীত পড়াতে শীতের কাপড় ভাল বিক্রি হচ্ছে। এ বছর নতুন করে যেসব কাপড় আসবে সেগুলোর দাম আগের তুলনায় একটু বেশি। এখন সব ১০০ টাকা করে বিক্রি করছি। নতুন কাপড়ের দাম আরেকটু বেশি হবে। পুরনো কাপড় বিক্রি শেষ হয়ে গেলে নতুন কাপড় বিক্রি করবো। গতবারের তুলনায় এবার এক লটে দু’আড়াই হাজার টাকা বেশি দিয়ে কাপড় কিনতে হয়েছে।
ফুটপাত থেকে সন্তানের জন্য শীতবস্ত্র কিনতে এসেছেন রাহিমা আক্তার নামের একজন গৃহিণী। ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম কে তিনি বলেন, শীত শুরু হয়ে গেছে তাই বাচ্চাদের জন্য শীতের পোশাক নিয়ে নিচ্ছি। শীত বাড়লে আবার দাম বেড়ে যাবে। তাই আগেভাগেই কিনে ফেলছি। সাতশো টাকার মধ্যে তিন বাচ্চার শীতের পোশাক কিনে ফেলেছি।
ফুটপাত থেকে নিজের জন্য সোয়েটার কিনতে আসা মহিউদ্দিন নামে একজন রিকশাচালক বলেন, দিনে শীত না পড়লেও রাতে রিকশা চালাতে ঠান্ডা লাগে। তাই একটা সোয়েটার কিনতে এসেছি। কিন্তু দাম চাইছে তিনশ’ টাকা। দুইশ’ টাকা বলছি, কিন্তু দোকানদার কোনোভাবেই দিচ্ছে না।
ইতোমধ্যে বড় বড় বিপণিবিতান,শপিং মল ও ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে শীতের পোশাক আসলেও বেচাকেনা এখনও তেমন জমে উঠেনি। বিপণিবিতান ও শপিং মলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত দুইদিন ধরে শীত বেশি পড়াতে শীতের পোশাক ক্রয়ে ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে।

