ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নির্বাচনের পর ক্ষমতায় অংশীদার হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিতে আগের সেই সাংগঠনিক জৌলুস আর দেখা যাচ্ছে না। গত কয়েক মাস ধরে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই সুযোগে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতেও শৃঙ্খলাহীনতা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাড়া-মহল্লা পর্যায়ে অনেকেই নিজেদের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে নানা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন, যা নিয়ে দলীয় মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থী বাছাই, অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং রাজনৈতিক ব্যস্ততায় তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রম অনেকটাই থেমে যায়। মাঠে বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি না থাকায় নেতাকর্মীদের মাঝেও নিরুৎসাহ তৈরি হয়েছে। ঈদুল ফিতরের পর দল আবার সক্রিয় হবে, এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
জেলা বিএনপির নেতারা বর্তমানে বিভিন্ন সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কমিটি নিয়েই বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিট কমিটি ভেঙে নতুন নেতৃত্ব আনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।
তবে নির্বাচনের ফল জেলা বিএনপির জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের জয় নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়া এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে দলের সিনিয়র নেতার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়াও সংগঠনের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে মহানগর বিএনপিতেও একই চিত্র বিরাজ করছে। প্রায় সাড়ে তিন বছরেও আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। কমিটি গঠনের পরপরই মহানগর বিএনপি ছন্নছাড়া অবস্থায় পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু সাংগঠনিক কার্যক্রম ধরে রাখার চেষ্টা করছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে আহ্বায়কের সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ার পর সাংগঠনিক কার্যক্রমে আরও স্থবিরতা এসেছে বলে অনেকে মনে করছেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আহ্বায়ক কমিটির ওপর নির্ভরশীলতা এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে বিলম্বের কারণে সংগঠনের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। এতে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না, বরং তাদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়মিত সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা থাকলেও জেলা ও মহানগর বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। একের পর এক আহ্বায়ক কমিটি গঠন ও পরে তা ভেঙে দেওয়ার প্রবণতা সংগঠনের ভিত দুর্বল করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের টানাপোড়েন এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ইউনিট পর্যায়ে শক্তিশালী কমিটি গঠন ও কার্যক্রম সচল রাখতে না পারা এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিচের স্তর সক্রিয় না থাকলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে ঈদের পর দল গোছানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। তাদের মতে, তৃণমূলকে সক্রিয় করা, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন, নিয়মিত কর্মসূচি চালু এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনের মাধ্যমে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করাই এখন সময়ের দাবি।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, দ্রুত একটি নির্বাচিত ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে আবারও শৃঙ্খলা, গতি ও সাংগঠনিক শক্তি ফিরে আসবে।

