নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অভিযান চালিয়ে কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারমকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১১। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে এসআরবি-১১। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আবু মোকারমের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার আবু মোকারম চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার উত্তর বরকল এলাকার আবু তালেবের ছেলে। ২০০৯ সালে চন্দনাইশ থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ১৯ মে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই বছরের ৯ জুলাই থেকে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন।
এসআরবি-১১-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সকালে কারাগারে বন্দীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অগ্নিসংযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে কারারক্ষীদের জিম্মি করে বৈদ্যুতিক পিলার ভেঙে তৈরি মই ব্যবহার করে কারাগারের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান বেশ কয়েকজন বন্দী। তাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবু মোকারমও ছিলেন। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করে।
কারাগার থেকে পালানোর পর দীর্ঘদিন গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করেন আবু মোকারম। পরিচয় গোপন রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। অবশেষে গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে আবু মোকারমসহ অন্য আসামিরা তার বোনের চাচি শাশুড়িকে হত্যা করে বাড়ির পাশের একটি ধানখেতে ফেলে রাখেন। এ ঘটনায় চন্দনাইশ থানায় হত্যা মামলা হয়। মামলায় আবু মোকারম ছিলেন এক নম্বর আসামি। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারের পর আবু মোকারমের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

