নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজপথের পরীক্ষিত এই নেতাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে স্বার্থান্বেষী একটি মহল পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।
বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি, রাজনীতিতে টিপুর দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা, সাংগঠনিক অবস্থান এবং মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগই একটি মহলের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার প্রকাশ্য অবস্থান এবং বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে না পারে এমন কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বিরাগভাজন হয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে আবু আল ইউসুফ খান টিপুর পরিচয় কেবল পদ-পদবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ছাত্র ও শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পর তিনি মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্বে আসেন। পরবর্তীতে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পান।
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলেন , বিএনপির কঠিন সময়গুলোতে মাঠে থাকা এবং দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার কারণে টিপুর সঙ্গে মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একটি সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের সময় টিপুকেও একাধিক মামলায় আসামি হতে হয়েছে এবং কারাবরণ করতে হয়েছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা ও সোনারগাঁ থানার পৃথক ১১টি মামলায় ৮২ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময় কারাভোগ করেও দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে না যাওয়াই টিপুর প্রতি মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের আস্থার অন্যতম কারণ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনের পর বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ যেন দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে এমন অবস্থান নিতে দেখা যায় টিপুকে।
পরবর্তী সময়ে তিনি বিভিন্ন বক্তব্যে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ার কথা বলেন। ২০২৬ সালের জুনে এক বক্তব্যে তিনি নারায়ণগঞ্জকে ‘গডফাদার’নির্ভর রাজনীতির বাইরে নিয়ে যাওয়ার এবং নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের কথা বলেন। একই সময়ে দলের নেতাকর্মীদের রাজপথে সক্রিয় থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
টিপুকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনার অন্যতম বিষয় নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ। ২০২৬ সালের এপ্রিলে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ নগরীর ফুটপাত হকারমুক্ত করার কর্মসূচিতে টিপুর সঙ্গে আবুল কাউসার আশাকেও মাঠে দেখা যায়।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি, ফুটপাতকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। টিপুর কঠোর অবস্থান সবার কাছে জনপ্রিয় না হলেও সাধারণ মানুষের একটি অংশের মধ্যে তা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। টিপুর রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মসূচির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান।
গত ১৫ আগস্ট ঘিরে কোনো ধরনের নৈরাজ্য হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করার পাশাপাশি জড়িতদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। টিপুর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সমালোচনা ও অপপ্রচারের পেছনে আসলে কি তার রাজনৈতিক অবস্থানই দায়ী?
বিএনপির নাম ব্যবহার করে যারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে, টিপুর নেতৃত্ব তাদের জন্য অস্বস্তিকর। কারণ তিনি প্রকাশ্যেই চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণেই তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলে মনে করেন তারা।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বর্তমান রাজনীতিতে নেতৃত্ব, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ ও মাঠপর্যায়ের প্রভাব নিয়ে নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ফলে কোনো নেতার জনপ্রিয়তা যেমন তাকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে আসে, তেমনি তাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও বাড়ে।
টিপুর সমর্থকদের অভিযোগ, এই প্রতিযোগিতার সুযোগ নিয়ে একটি মহল ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপপ্রচারের পথ বেছে নিয়েছে। তাদের দাবি, সমালোচনা থাকলে তা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ফোরামে হওয়া উচিত; অপপ্রচার কিংবা চরিত্রহননের মাধ্যমে কোনো নেতাকে দুর্বল করার চেষ্টা দলকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ‘রাজপথে পরীক্ষিত একজন নেতাকে কাগজে-কলমে বিতর্কিত করে তৃণমূলের আস্থা নষ্ট করা যাবে না।’
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে ঘিরে সমর্থন, বিরোধিতা ও সমালোচনা—তিনটিই এখন দৃশ্যমান। একদিকে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, কারাবরণ ও সাংগঠনিক ভূমিকা; অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক সব মিলিয়ে টিপু এখন মহানগর বিএনপির রাজনীতির আলোচিত চরিত্র।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল আল ইউসুফ খান টিপু বরেন, আমি সব সময় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজীর বিরুদ্ধে ছিলাম এবং আছি। আমাকে নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে এটা নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই । আমি নিজে অন্যায় করি না, কাউকে করতেও দিব না । আমার প্রধানমন্ত্রী দেশ নায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে কাজ করে যাচ্ছি ইনশাআল্লাহ। আমি বিএনপির একজন ক্ষুদ্র কর্মী আমার দায়িত্ব আমি পালন করে যাবো ।

