ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ রাহুমুক্ত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতপাড়া। আদালতপাড়া এলাকাটি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওতাধীন হলেও এই আসনে এনসিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল আমিন বিজয়ী হয়েছেন। তবে বিপুল বিজয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এতে এই আদালতপাড়ার মামলা বানিজ্যকারী ও বিতর্কিত বিএনপির আইনজীবীদের হাতের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি মিলতে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির এমপি নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। একই আদালতে আইন পেশা পরিচালনা করছেন আবুল কালামের কন্যা অ্যাডভোকেট সামসুন্নুর বাধন। একজন ক্লিন ইমেজধারী এমপি হওয়ায় আবুল কালামের হাতেই বিতর্কিতদের জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পাবে কোর্টপাড়া। সাধারণ আইনজীবীরাও পাবেন স্বস্থি।
আদালতপাড়ার সূত্রে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ওই বছরের ৫ আগস্ট বিনা ভোটে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি ও জামাতের আইনজীবীরা মিলে সমিতির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নেন। ওই নির্বাচনে কাউকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে দেননি মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসূফ খান টিপু ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধান। সরকার হুমায়ুন কবির সভাপতি পদে ও আনোয়ার প্রধানকে বিনা ভোটে সাধারণ সম্পাদক করে সমিতির নিয়ন্ত্রণ করেন তারা। যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তাদেরকে মারধর করা হয়।
গত আগস্ট মাসে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনের পূর্বে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে আনোয়র প্রধান আইনজীবীদের জানান পরবর্তীতে দেড় বছর পর সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জোর করে আগামী বছরের জানুয়ারী পর্যন্ত হুমায়ুন ও আনোয়ার ক্ষমতায় থাকার চক্রান্ত করছেন। ৫ আগস্টের পর সাখাওয়াত, টিপু, আনোয়ার প্রধান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় মামলা বানিজ্য ও হলফনামা বানিজ্য করে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তাই আনোয়ার প্রধান নিজেকে ইটলারের মত ক্ষমতাধর ভাবতে শুরু করেছেন। জোর করে আবারো দেড় বছর ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করছেন।
এদিকে আইনজীবীরা বলছেন, আবুল কালাম যেহেতু একজন আইনজীবী, সেহেতু তিনি কোর্টপাড়ার পরিস্থিতি ভালো মানুষদের হাতে নিয়ে আসবেন। ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভাকেট আব্দুল বারী ভুঁইয়া নারায়ণগঞ্জ কোর্টপাড়াকে নিজের বাপ দাদার পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করছেন। তিনি ৫ আগস্টের পর বিএনপিকে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত করেছেন। বারী ভুঁইয়া আওয়ামীলীগের আইনজীবীসহ সাধারণ আইনজীবীদের উপর রীতিমত স্টীমরোলার চালিয়েছেন। বারীর বেয়াদব খ্যাত পুত্র রাকিব ভুঁইয়া কোর্টপাড়ায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। এসব বিতর্কিত ব্যক্তিদের হাত থেকে কোর্টপাড়াকে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিতে পারেন একমাত্র আবুল কালাম ও তার পুত্র আবুল কাউসার আশা।
২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নবীগঞ্জ এলাকায় গণপিটুনির শিকার হোন টিপু। ওই ঘটনায় আবুল কাউসার আশা ও তার চাচা আতাউর রহমান মুকুলকে মিথ্যাভাবে আসামী করা হয়। ওই মামলায় আশা ও মুুকুল জামিন নিতে আসলে সাখাওয়াত, আনোয়ার প্রধান বিরোধীতা করেছিলেন। কোর্টপাড়ায় আবুল কালামের কন্যা বাধনকে সাখাওয়াত, আনোয়ার প্রধানরা কর্মী বানিয়ে রেখেছেন। তাকে জিম্মি করে তাকে তার মত করে রাজনীতি করতেও বাধাগ্রস্থ করেছেন সাখাওয়াত, আনোয়ার প্রধান। একইভাবে যারা আবুল কালামের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন তাদেরকে অসম্মান অবমুল্যায়ন করেছেন তারা।

