নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা এবার মামলায় গড়িয়েছে। কাঠেরপুল এলাকার ওই ঘটনায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। ইতিমধ্যে শিবু (৪২) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এজাহারে নাম থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ, শাহাদাত হোসেন সেন্টু, জেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি টিপু সুলতান, যুবলীগ নেতা আজমত আলী, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু, ওয়াসিম, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মজিবর, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ, সেলিম। তালিকায় আরও আছেন কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লিখিত মিরু হোসেন ওরফে ল্যাংড়া মিরু, রঞ্জিত মণ্ডল, সাবেক জেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহীম চেঙ্গীস ওরফে চেঙ্গীস খান, ফতুল্লা থানা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি নাজিম উদ্দীন সরদার, ফতুল্লা থানা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি আবু শরিফুল হক, সাবেক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শামীম, ইমরান হোসেন শুভ ওরফে চান শুভ, আল আমিন কবির। এছাড়া জাকারিয়া জাকির ওরফে জাকির মেম্বার, রতন, রাকিব, শাহ নিজামের সহযোগী হিসেবে উল্লিখিত রাজ্জাকসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পর্যায়ের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের আড়ালে রাজনৈতিক ইন্ধন, অর্থায়ন, পরিকল্পিত নাশকতার চেষ্টা ছিল। গত ৪ নভেম্বর কাঠেরপুল থেকে শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় এই মামলা করা হয়। এজাহার অনুযায়ী, ওইদিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে ফতুল্লার কাঠেরপুল, শিবু মার্কেট, ইরান টেক্সটাইল এলাকার আবির ফ্যাশন, পলমল গার্মেন্টস, মাইক্রো ফাইবার, মেট্রো গার্মেন্টস, টাইম সোয়েটার, মডার্ন গার্মেন্টসসহ আশপাশের বিভিন্ন কারখানার প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ শ্রমিক একত্রিত হয়ে কাঠেরপুল থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। প্রথমে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি অংশ সড়কে টায়ারসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় অবরোধের উদ্দেশ্যে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সামনে এগোনোর চেষ্টা, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন যানবাহনের কাচ ভাঙচুর হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাধা দিলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, শিল্প পুলিশের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড, কালার স্মোক গ্রেনেড ব্যবহার করেন। এজাহারে উল্লিখিত হিসাব অনুযায়ী, দুই বাহিনীর সদস্যরা মোট ২০৩টি লং শেল, ৪৪টি শর্ট শেল, ২৪টি সাউন্ড গ্রেনেড, দুটি কালার স্মোক গ্রেনেড, পাঁচটি টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করেন। পুলিশের দাবি, এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের পর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে সরে যান। পরে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় শিবুকে গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় শিবু নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

