নারায়ণগঞ্জের পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। তাঁর মতে, শ্রমিকদের বেতন-ভাতার দাবিকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার পেছনে কেবল শ্রমিকদের স্বার্থ নয়, বরং শিল্প খাতকে বিপর্যস্ত করার একটি পরিকল্পনাও থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর চাঁদমারিতে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চেম্বারের সভাপতি ও সংসদ সদস্য দিপু।
তিনি বলেন, দেশের তৈরি পোশাকশিল্প অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এ খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে শুধু মালিকপক্ষ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সব শ্রেণির মানুষ। মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড রয়েছে এবং সেই বোর্ডের সিদ্ধান্ত মালিকরা মেনে নিয়েছেন। এরপরও আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এর পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের কারখানাগুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরে দিপু দাবি করেন, জেলায় পাঁচ শতাধিক পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ১২ থেকে ১৩টি কারখানায় সমস্যা দেখা দিলেও আন্দোলনের বিস্তৃতি ঘটানোর চেষ্টা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৯০ শতাংশই পোশাক কারখানার শ্রমিক নন। বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু কোনো পক্ষ যদি শ্রমিক অসন্তোষকে ব্যবহার করে দেশের শিল্প ও অর্থনীতির ক্ষতি করতে চায়, তাহলে সেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে সংসদ সদস্য বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। সরকারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতারাও শিল্পাঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ, বিকেএমইএর সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, চেম্বারের সহসভাপতি আবু জাফর, পরিচালক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, সোহেল আক্তার, গোলাম সারোয়ার সাঈদ, আহমেদুর রহমান তনু ও মজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

