শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে মুখর নারায়ণগঞ্জ। ঢাকের বাদ্য, প্রতিমার সৌন্দর্য আর আলোকসজ্জায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পূজামণ্ডপগুলো। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরছেন দর্শনার্থীরা। তবে উৎসবের এই আনন্দের পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দুর্গাপূজা ঘিরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটির স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করছেন। কোথাও প্রবেশপথে নজরদারি, কোথাও দর্শনার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং কোথাও মণ্ডপের আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জেলার সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা, বন্দর, সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় দুর্গাপূজা ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিটি মণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও উৎসবের আবহকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লে মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সচল রাখা, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক থাকা জরুরি হয়ে পড়ে।
পাশাপাশি মণ্ডপকেন্দ্রিক এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ, সন্দেহজনক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাও নিরাপত্তাব্যবস্থার অন্যতম অংশ। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি পূজা পন্ডপে কয়েক ধাপের নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করা হয়েছে।
দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, নারায়ণগঞ্জের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। প্রতিবছর বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষ পূজামণ্ডপে গিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন। ফলে এই আয়োজনকে ঘিরে নিরাপদ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব সবার।
পূজারীরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালন করতে চান, আর দর্শনার্থীরা চান পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে মণ্ডপ ঘুরে দেখতে। এই প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জে দুর্গোৎসবের আনন্দ ধরে রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও নাগরিক ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উৎসবের দিনগুলোতে সতর্কতা, দায়িত্বশীল আচরণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে ধর্মীয় আনন্দের পাশাপাশি সম্প্রীতির বন্ধনও আরও দৃঢ় হবে।

