পতিত আওয়ামী লীগ ভারতে অবস্থান করে এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে বসে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, অতীতেও আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। বর্তমানেও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে জনগণ বিএনপি সরকারের পাশে থাকলে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র ও চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রাশেদ খান।
তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল। এর আগে ১৯৮৬ সালে এরশাদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার ক্ষেত্রেও আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সে সময় বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ওই রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খান আরও বলেন, অতীতের মতো বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তার ভাষায়, পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দিল্লিতে বসে এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে থেকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বিএনপি সক্ষম বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন থাকলে বিএনপি সরকার যেকোনো চাপ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে পারবে। দেশের স্বার্থ ও জনগণের সমর্থনকে সামনে রেখেই সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে রবিবার দুপুরে রাশেদ খান নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলী এলাকায় অবস্থিত আব্বাসী মঞ্জিল জৌনপুরী দরবার শরীফে যান। সেখানে তিনি মুফতি ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাশফিকুর রহমানসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাশেদ খানের এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর অতীত রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে। তবে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ তিনি করেছেন, তা তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।

