নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৬৩ ক্যান বিয়ার, ২৯৫টি ইয়াবা, ৬১ বোতল স্কাফ, ৪৫ বোতল ফায়ারডিল ও ১০০ গ্রাম গাঁজা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এসব তথ্য জানান।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাতটি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জন মাদক কারবারি, ৮৮ জন মাদকসেবী, ১৯ জন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি, নিয়মিত মামলার ১৪ জন, একজন চোর, অন্যান্য মামলার চারজন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের একজন সদস্য রয়েছেন।
থানাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ একাই ৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে ৫২ জন মাদকসেবী, দুইজন মাদক কারবারি, ১০ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামি, অন্যান্য ধারায় একজন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের একজন সদস্য রয়েছেন। এ সময় ৬৩ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ২৫ জন গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৬১ বোতল স্কাফ, ৪৫ বোতল ফায়ারডিল ও ২৭০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে সাতজন মাদক কারবারি, আটজন মাদকসেবী, দুইজন পরোয়ানাভুক্ত এবং নিয়মিত মামলার আটজন আসামি রয়েছেন।
সোনারগাঁয়ে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। তাদের মধ্যে ১১ জন মাদকসেবী, একজন চোর ও একজন পরোয়ানাভুক্ত আসামি রয়েছেন। রূপগঞ্জে ২৫টি ইয়াবাসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন মাদক কারবারি, সাতজন মাদকসেবী ও নিয়মিত মামলার তিনজন আসামি রয়েছেন।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে ছয়জন মাদকসেবী, একজন পরোয়ানাভুক্ত ও দুইজন নিয়মিত মামলার আসামি। বন্দরে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন মাদক কারবারি, একজন মাদকসেবী, দুইজন পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও অন্যান্য মামলার তিনজন রয়েছেন।
আড়াইহাজার থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও সাতজন। তাদের মধ্যে তিনজন মাদকসেবী, তিনজন পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং নিয়মিত মামলার একজন আসামি রয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, জেলার সাতটি থানা ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অপরাধ দমনের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য উদ্ধারেও পুলিশ কাজ করছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

