এ দেশের শাসকশ্রেণি ও রাজনৈতিক দলগুলো সব সময় লুটপাটকারী ও ধনকুবেরদের প্রতিনিধিত্ব করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ। তিনি বলেন, “এ দেশের ধনী শ্রেণি, লুটপাট ও দখলদারদের প্রতিনিধিত্ব করতেন শেখ হাসিনা। ড. ইউনূসও তাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আর বর্তমানে তারেক রহমানের সরকারও তাদের প্রতিনিধিত্ব করছে।”
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রেললাইন বটতলায় সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট (নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চল শাখা) আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ।
সমাবেশে বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে সাধারণ মানুষ ভেবেছিল শেখ হাসিনার শাসনামলের চাঁদাবাজি, লুটপাট, দলীয়করণ ও অর্থ পাচারের সংস্কৃতি থেকে মুক্তি মিলবে। কিন্তু তারা সে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। আর বর্তমান সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট তারা সাধারণ গরিব মানুষের নয়, বরং বড়লোক ও লুটপাটকারীদের সরকার।
শ্রমিকদের অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অথচ সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। নিত্যপণ্য, ঘরভাড়া ও জ্বালানির দাম বাড়ায় শ্রমিকদের জীবন আজ অতিষ্ঠ। অনতিবিলম্বে বাজারদরের সঙ্গে সংগতি রেখে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
রাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বাসদের এই নেতা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার আগে যে ‘প্ল্যান’-এর কথা বলেছিলেন, তা এখন বন্দর ইজারা ও জাতীয় সম্পদ হস্তান্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর ইজারার সিদ্ধান্তের কঠোর বিরোধিতা করে তিনি বলেন, দেশের হৃদপিণ্ড ও বন্দর ইজারা দিলে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।
একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা এসব নেতা সাধারণ শ্রমিক-কৃষকের পাশে না দাঁড়িয়ে পুঁজিপতি ও ধনকুবেরদের কাছে গিয়েছেন। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় চললে সাধারণ মানুষের দুর্দশা বোঝা সম্ভব নয়।
বামপন্থীদের রাজপথের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ফিরোজ বলেন, সংসদে প্রতিনিধি না থাকলেও মেহনতি মানুষের অধিকার, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় বাসদ সব সময় রাজপথে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা চাঁদাবাজি বন্ধ, বাজারদর নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান এবং জাতীয় সম্পদ ইজারার যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহতের আহ্বান জানান।

