ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হকার উচ্ছেদ ইস্যু আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। অতীতে এ ইস্যুকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও রক্তাক্ত ঘটনার নজির থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি নেতারা।
১৬জানুয়ারি২০১৮ নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়ার সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগ মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী হকার উচ্ছেদের পক্ষে অবস্থান নেন। তবে একই সময়ে সাবেক এমপি শামীম ওসমান হকারদের পক্ষে অবস্থান নিলে শহরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে আইভী ও শামীম ওসমান সমর্থিত দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে মেয়র আইভী নিজেও আহত হন, যা তখন সারা দেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর থেকেই হকার উচ্ছেদ ইস্যু নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একটি স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান। দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন—শহরের কোনো ফুটপাতে হকার বসতে দেওয়া হবে না।
এ ঘোষণার আগ থেকেই শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং আবুল কাউসার আশাকে। গত ১৩ এপ্রিল থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
তবে এ অভিযান শুরুর পর থেকেই নতুন করে হকার পুনর্বাসন ও বসানো নিয়ে নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি নেতাদের দাবি, বামপন্থী কিছু দলের নেতারা হকারদের আবারও ফুটপাতে বসানোর চেষ্টা করছেন, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে, নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদ ইস্যু এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। অতীতে আওয়ামী লীগের সময় এ ইস্যুতে সংঘর্ষ ও রক্তপাতের ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি বর্তমানেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এখন দেখার বিষয়—কঠোর অবস্থান নিয়ে বিএনপি কি শেষ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে পারবে, নাকি অতীতের মতো আবারও এই ইস্যুতে “ব্যথা” পেতে হবে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে।

