জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরপরই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্ধন ও উৎসব পরিবহনে আগের ৫৫ টাকার পরিবর্তে যাত্রীদের কাছ থেকে ৬০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ ভাড়া বাড়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিয়মিত যাত্রীরা। একই সঙ্গে রুটের অন্যান্য পরিবহনেও ভাড়া বাড়ানোর আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের বিভিন্ন কাউন্টারে গিয়ে নতুন ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন যাত্রীরা। অনেকেই জানান, কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কাউন্টারে গিয়ে তাদের কাছ থেকে বাড়তি ৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী আল আমিন বলেন, ‘প্রতিদিন অফিসের কাজে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াত করি। এতদিন ৫৫ টাকা ভাড়া দিয়েছি। মঙ্গলবার সকালে কাউন্টারে এসে দেখি ৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তেলের দাম বেড়েছে, সেটা বুঝি; কিন্তু ভাড়া বাড়ানোর আগে যাত্রীদের জানানো উচিত ছিল।’
আরেক যাত্রী রাকিব হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় বলে ভাড়া বাড়ার বিষয়টি সরাসরি আমাদের ওপর প্রভাব ফেলবে। একবারে ৫ টাকা বেশি মনে হলেও মাস শেষে হিসাব করলে অতিরিক্ত খরচটা কম নয়। অন্য বাসগুলোতেও যদি ভাড়া বাড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।’
ঢাকায় কর্মরত নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘চাকরির কারণে নিয়মিত বাসে যাতায়াত করি। বাসভাড়া, রিকশাভাড়া—সবকিছুই ধীরে ধীরে বাড়ছে। এখন বাসভাড়াও বাড়ানো হলে যাতায়াতের খরচ অনেক বেড়ে যাবে। কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে দেখা।’
এদিকে বন্ধন পরিবহনের পরিচালক সাখাওয়াত ইসলাম রানা বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর বাসভাড়া কিছুটা বাড়ানো স্বাভাবিক। তবে যাত্রীদের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কোনো অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে বাসভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাফী বিন কবির। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে বাসভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি জানতে পেরেছেন। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পরিবহন মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে থাকতে পারেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বন্ধন ও উৎসব পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির পর অন্যান্য পরিবহনেও একইভাবে ভাড়া বাড়ানোর আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা। এতে প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রয়োজনে ঢাকায় যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

