ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাস, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় র্যাব ও পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আঘাত নয়, বরং রাষ্ট্রের আইন ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল।
গত ৫ মে ২০২৬ নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর বোয়ালিয়া খাল এলাকায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান পরিচালনার সময় র্যাব-১১ এর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় অন্তত তিনজন র্যাব সদস্য আহত হন। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান শুরু হয়।
এর ঠিক একদিন পর, ৬ মে ২০২৬, ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগের হাশেমবাগ এলাকায় পুলিশের একটি অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনাটি জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
র্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দীর্ঘদিন ধরে কিছু এলাকায় মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটায় অপরাধী চক্রগুলো প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালে সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ বা হামলার মতো ঘটনাও ঘটছে। তাদের মতে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, মাদকের উৎস শনাক্তকরণ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জে মাদক ও সন্ত্রাসের বিস্তার রোধ হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে। একই সঙ্গে পুলিশ ও র্যাবের ওপর হামলার মতো ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তারা।

