নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। তিনি অভিযোগ করেছেন, বুলবুল হত্যার সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলা থাকলেও প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসনের এই ব্যর্থতার কারণেই বুলবুলকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় নিহত ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুলের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ এ সকল কথা বলেন।
তিনি বুলবুল হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মামলাটির নিষ্পত্তির আহ্বান জানান।
চরমোনাই পীর বলেন, অন্যায়ভাবে কাউকে ফাঁসানো তাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে যারা হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগও দেওয়া যাবে না। তিনি বুলবুল হত্যার বিচারকে দৃষ্টান্তমূলক করার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘসূত্রতার কারণে যেন মামলার বাদী ও স্বজনরা বছরের পর বছর হয়রানির শিকার না হন এবং আসামিরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারেন। এজন্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পরে বুলবুলের পরিবারের হাতে ২ লাখ টাকা তুলে দেন তিনি এবং তার পরিবারের পাশে সব সময় থাকবেন বলে জানান ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজে হামলা ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় বুলবুল মামলা করার পর বিরোধ আরও তীব্র হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। পরে ২০ আগস্ট রাতে সালেহনগর এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
বুলবুল হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ববিরোধ এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলার আসামি হওয়ার ক্ষোভ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে দা, চাপাতি, সুইচ গিয়ার চাকু, লোহার পাইপ, ছুরিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই বুলবুলের মৃত্যু– চরমোনাই পীর
Leave a Comment

