নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ব্যবসায়ী জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত জাহিদ আল আমিন বুলবুল পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের খাবার সরবরাহ করেছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেখ সিফাতসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয় বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে শেখ সিফাতসহ তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, লোহার পাইপ ও রড নিয়ে বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজে হামলা করে। এ সময় গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা, চার্জার, ব্যাটারিসহ প্রায় ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় বুলবুল বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২০ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দরের সালেহ নগর এলাকায় তাহের আলী প্রধানের বাড়ির সামনে পাকা সড়কে বুলবুলের পথরোধ করে একদল দুর্বৃত্ত। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ সিফাতের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা বুলবুলকে ধারালো অস্ত্র, লোহার পাইপ, রামদা, চাপাতি, সুইচ গিয়ার ও চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় বন্দর থানায় ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযান শুরু করে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত ফোর্স ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।
একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘খ’ সার্কেল দীপংকর ঘোষের তদারকিতে এবং বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শেখ সিফাতের আস্তানা হিসেবে পরিচিত পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে সেখান থেকে শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শেখ সিফাত (৩২), জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন, মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), রিয়াদ (৩৩), মো. সিয়াম (২৫), মোসা. মিনারা (৩৫), নাসিমা (৩৬), রুমা (৩৬), ইফরান (২৯), ইয়াসমিন (৪০) ও সিজান ওরফে জিসান (২৬)। তাদের সবার বাড়ি বন্দর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মনের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। পুলিশের দাবি, শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।
অভিযানে একটি ছ্যান দা, একটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি স্টিলের চাপাতি, একটি স্টিলের সুইচ গিয়ার চাকু, একটি লোহার পাইপ, একটি প্লাস্টিকের হাতলযুক্ত স্টিলের ছুরি, একটি ওয়াকিটকি এবং চারটি এসএসের লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

