যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যৌথ সামরিক মহড়া ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে’ দেওয়া হবে।
এ সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের খরচের কথা উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তার মতে, এসব মহড়া ব্যয়বহুল। এর বড় অংশের খরচ যুক্তরাষ্ট্র বহন করে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের মহড়া এমন একটি সংকেত দেয়, যা ‘পুরোপুরি অনুপযুক্ত ও বৈরী’।
ইরান ইস্যুতে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান
ট্রাম্প তার পোস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক কথোপকথনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন তিনি। তবে দক্ষিণ কোরিয়া এতে রাজি হয়নি।
ট্রাম্প লেখেন, দক্ষিণ কোরিয়া তাকে বলেছে, ‘না, ধন্যবাদ।’
এর আগে জাপান, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্রদেশেরও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে অনীহার সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।
কী বলছে দক্ষিণ কোরিয়া
ট্রাম্পের ঘোষণার পর দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই চলবে।
সোমবার থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার।
ট্রাম্প বলেছেন, মহড়া শুরুর সময় খুব কাছে চলে আসায় এটি বাতিল করার মতো সময় আর নেই।
১১ দিনের এই মহড়ায় আগের বছরগুলোর মতোই প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেওয়ার কথা।
উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা
যৌথ সামরিক মহড়ার সময় উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তারা জানান, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের বিষয়টিও মহড়ার পরিকল্পনায় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন।
এদিকে গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার সমালোচনা করে একে ‘আগ্রাসী যুদ্ধের মহড়া’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এর কয়েক দিন আগেই দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান উত্তর কোরিয়ার আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শনাক্ত করে।
কিম জং উনের সঙ্গে ‘ভালো সম্পর্ক’
সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, কিমের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে। এর একদিন আগেই ২০১৮ সালে কিমের সঙ্গে তোলা একটি পুরোনো ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
ছবিটির বিষয়ে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ছবিতে তাদের মুখভঙ্গি বন্ধুত্বপূর্ণ না হলেও তারা দুজন ‘দারুণ বন্ধু’।
২০১৮ সালে ট্রাম্পই প্রথম ক্ষমতাসীন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উত্তর কোরিয়ার মাটিতে পা রেখেছিলেন।
আগেও সামরিক মহড়া স্থগিত করেছিলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবারই প্রথম নয়।
২০১৮ সালে কিম জং উনের সঙ্গে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা চলার সময় ট্রাম্প যৌথ সামরিক মহড়া পুরোপুরি স্থগিত করেছিলেন।
২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময়ও মহড়ার পরিসর কমানো হয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি

