নারায়ণগঞ্জের সরকারি তুলারাম কলেজে গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমির আব্দুল জব্বার।
একটি ভিডিও বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, মিশনপাড়া থেকে চাষাঢ়া হয়ে কালীবাজারগামী ছাত্রশিবিরের একটি মিছিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া আরও সাত থেকে আটজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
আব্দুল জব্বার বলেন, এর আগে সরকারি তুলারাম কলেজে অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের পাশাপাশি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন। তার অভিযোগ, ছাত্রদলের এক নেতার বক্তব্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষকদের সহযোগিতায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা কলেজ ত্যাগের চেষ্টা করলে কলেজ গেটের সামনে তাদের ধাওয়া করা হয় এবং কলেজ শাখা সভাপতিকে মারধর করা হয়।
তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি জেলা প্রশাসনের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবহিত করেন।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সংকটময় সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে একই ধারার আন্দোলনে যুক্ত ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে এমন সংঘর্ষ অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
জামায়াতের এই নেতা বিএনপি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে কলেজের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য ভিডিওচিত্র পর্যালোচনা করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা উচিত। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও অভ্যন্তরীণ সংঘাত অব্যাহত থাকলে দেশবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাই বৃহত্তর স্বার্থে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং আইনসম্মত উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান তিনি।

