নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একই সময়ে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুই দলের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিলেও পুলিশের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে আড়াইহাজার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। এদিন সারাদেশে গণমিছিলের কর্মসূচি পালন করে জামায়াতে ইসলামী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে জামায়াতে ইসলামী তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আড়াইহাজার বাজার এলাকায় মিছিল বের করে। একই সময়ে উপজেলা বিএনপিও পৃথক কর্মসূচি নিয়ে বাজার এলাকায় প্রবেশ করলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা কাছাকাছি অবস্থানে চলে আসেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নেন। পরে উভয় দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন তারা। ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুই পক্ষ নিজ নিজ কর্মসূচি শেষ করে এলাকা ত্যাগ করে।
বিএনপির মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লুতফর রহমান আব্দু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ।
অন্যদিকে জামায়াতের মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা জামায়াতের আমির মুমিনুর হক সরকার, সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্লা এবং আড়াইহাজার উত্তর শাখার আমির মাওলানা মনিরুল ইসলাম।
জামায়াত নেতা অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্লা দাবি করেন, এটি তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল এবং বিএনপি তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মাঠে নেমেছিল। তবে তারা কোনো ধরনের সংঘাতে জড়াননি।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ জামায়াতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বিএনপিও পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি পালন করতে মাঠে নেমেছিল। তারা কোনো উসকানিতে সাড়া দেয়নি এবং শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি শেষ করেছে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নেয়। পুলিশের উপস্থিতির কারণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং উভয় পক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করে চলে যায়।

