দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রাণ হারানো ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সাদিক হোসেন (শুভ)কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সহকর্মীরা। জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ নিজ জেলা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নেওয়া হয়। সেখানে বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের মণ্ডলপাড়া ফায়ার স্টেশনে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নিয়ে প্রয়াত সহকর্মীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে ঢাকার ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মরদেহ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নেওয়া হয়। বিকেলে সেখানে জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
সাদিক হোসেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ আলীর ছেলে। মাত্র দুই বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। স্ত্রী সাদিয়া খাতুনকে নিয়ে সুখের সংসার গড়ে তুললেও সেই স্বপ্ন অকালেই থেমে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন দিন আগেও মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল সাদিকের। বাড়ি ফেরার কথা জানিয়ে বাবার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পাঠাতে বলেছিলেন তিনি। সেই কথাই এখন পরিবারের জন্য হয়ে উঠেছে শেষ স্মৃতি।
ছেলের সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া রাষ্ট্রীয় পদক হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা লিলি বেগম। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সাহসী ছিল। প্রশিক্ষিত ডুবুরি হওয়ার পরও কীভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে তাঁর সন্দেহ রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর সাদিক হোসেন বাহিনীতে যোগ দেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর ফায়ার স্টেশনে ডুবুরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উদ্ধার অভিযানে সাহসিকতা ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছরের ১৯ মে তাঁকে প্রেসিডেন্ট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (সেবা) পদক প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ ফায়ারঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে জেটির সামনে কচুরিপানা পরিষ্কারের দায়িত্ব পালনকালে সাদিক নিখোঁজ হন। প্রায় আট ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের আরেক ডুবুরি নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।
এদিকে, সাদিকের প্রতিবেশী ও গোয়ালন্দ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ফজলুল হক বলেন, সাদিক ছিলেন এলাকার অত্যন্ত সৎ ও ভদ্র একজন তরুণ। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানো পরিবারটির পাশে সরকারকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

