নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘদিনের যানজট, নগর ব্যবস্থাপনা, সেতু নির্মাণ, উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। তিনি বলেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চললেও এর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনের একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সংসদ সদস্য বলেন, গত সাড়ে চার মাসে সরকার নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। একটি বড় প্রকল্প পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সময়সাপেক্ষ হওয়ায় তাৎক্ষণিক ফল আশা করা ঠিক নয়। প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে সাধারণ মানুষ বাস্তব পরিবর্তন অনুভব করবেন।
তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নেতারা যে সমস্যাগুলোর কথা তুলে ধরেছেন, তার অধিকাংশই বাস্তব এবং দীর্ঘদিনের। সবাই একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে চান। সেই লক্ষ্যেই সরকার ও জনপ্রতিনিধিরা কাজ করছেন।
যানজট ও হকার সমস্যা প্রসঙ্গে আবুল কালাম বলেন, রাজনৈতিকভাবে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা প্রশাসনিক জটিলতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়নি। আগে এসব জটিলতা দূর করতে হবে, এরপর স্থায়ী সমাধান কার্যকর হবে।
নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সেতু প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে জনস্বার্থে প্রকল্পটি অনুমোদিত হলেও পরবর্তী সময়ে নকশা ও অবস্থান পরিবর্তনের কারণে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এখন আবার প্রকল্পে পরিবর্তন আনলে সময় ও ব্যয় উভয়ই বাড়বে। পাশাপাশি পাঁচ নম্বর ঘাট এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুর কারণে ভবিষ্যতে যানজট সৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে ৩০০ শয্যার নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে উন্নীত করার দাবি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিদ্যমান সরকারি ভবন ব্যবহার করেই প্রাথমিকভাবে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে সংসদ সদস্য বলেন, বর্তমান সময়ে প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক—সব ধরনের গণমাধ্যমই মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ। বিশেষ করে টেলিভিশন সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের সামনে বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন, যা অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম।
নারায়ণগঞ্জ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাফিজ আশরাফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ, সহসভাপতি আমির হোসাইন স্মিথ, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, যুগ্ম সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ সাত্তার আলী সোহেল, কার্যকরী সদস্য সৈয়দ সিফাত আল লিংকন, হাসান মজুমদার বাবলুসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

