কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও গণহত্যার অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা ও মহানগর শাখা। দলটির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সারা দেশেই একই দাবিতে এনসিপি বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল।
বিক্ষোভ মিছিলটি শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপি নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক যুবাইর আহমেদ সরদার এবং মহানগর আহ্বায়ক শওকত আলী।
যুবাইর আহমেদ সরদার বলেন, দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে বলে জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জনগণ এখন গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং অতীতের অন্যায়-অবিচারের বিচার প্রত্যাশা করছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের ঐক্য প্রয়োজন। অতীতে সংঘটিত গুম, খুন ও নির্যাতনের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলী বলেন, জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা, গুম ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে দেশে স্থায়ী শান্তি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করা হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ আলম, জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তানজিমুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সবুজ, সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হুদা সাদ্দামসহ জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সহিংসতা ও প্রতিহিংসার পরিবর্তে ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই তাদের আন্দোলন ও কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

