নারায়ণগঞ্জের বন্দরে প্রবাসীর স্ত্রীর ওপর বর্বরোচিত হামলা ও দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত গ্রিল মিস্ত্রি আক্তার হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার তিন দিন পর আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ভিকটিমের বাড়ির আশেপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় স্থানীয় জনতা তাকে চিনে ফেলে এবং গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
ভুক্তভোগী মমতাজ আক্তার (৫০) বন্দরের লেজার্স আবাসিক এলাকায় নিজের বাড়িতে একাই থাকতেন। তাঁর ছেলে প্রবাসী এবং মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। বাড়ির তিন তলার নির্মাণকাজ চলায় গ্রিল মিস্ত্রি আক্তারের সাথে তাঁর আগে থেকেই পরিচয় ছিল। সেই সুবাদে গত ১০ জুন আক্তার মেরামতের কথা বলে মমতাজ আক্তারকে ফোন দেয় এবং গত ১৬ জুন দুপুরে সুকৌশলে তাঁর তিন তলার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফ্ল্যাটে ঢোকার পর আক্তার পানি খেতে চাইলে মমতাজ আক্তার রান্নাঘরে যান। এ সময় আক্তার পেছন থেকে গিয়ে তাঁর গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকি দেয়। মমতাজ আক্তারের গলার চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তিনি বাধা দিলে আক্তার তাকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। পরে তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে আলমারি ভেঙে নগদ ৫০-৬০ হাজার টাকা, ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, একটি দামী স্মার্টফোন এবং একটি টেবিল ফ্যানসহ মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়। যাওয়ার সময় পুলিশকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় আক্তার।
লুটপাটের তিন দিন পর আজ সকালে আক্তার আবারও ওই এলাকায় ওত পেতে থাকলে স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে চিনে ফেলে। ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে বন্দর ফাঁড়ির এএসআই তাপস ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে আক্তারকে উদ্ধার করেন। জনরোষে আহত আক্তারকে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বন্দর থানা পুলিশ জানিয়েছে, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো সহযোগী আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মমতাজ আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

