নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বেড়াতে এসে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার মেঘনা সেতুর পাশের মেঘনা লঞ্চঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতরা হলো ঢাকার শনিরআখড়া এলাকার বাসিন্দা কায়েস (১৩)ও মিরাজ (১৬)। কায়েস শনিরআখড়া এ কে উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এবং মিরাজ বর্ণমালা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটির আমেজে বুধবার সকালে ঢাকার শনিরআখড়া ও দনিয়া এলাকা থেকে সাত বন্ধু একসঙ্গে সোনারগাঁওয়ের মেঘনা লঞ্চঘাট এলাকায় ঘুরতে আসে। দুপুরে তারা মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে নদীর তীব্র স্রোতে কায়েস ও মিরাজ তলিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে থাকা অন্য পাঁচ বন্ধু দ্রুত তীরে উঠতে সক্ষম হলেও দুই বন্ধুকে আর উদ্ধার করতে পারেনি।
স্থানীয়রা জানান, নদীতে নামা সাত বন্ধুর কেউই সাঁতার জানত না। ফলে দুর্ঘটনার মুহূর্তে তারা অসহায় হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার চেষ্টা চালালেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
পরে সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টার পর নদী থেকে দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বৈদ্যেরবাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আল মামুন হায়দার জানান, ঢাকার সাত বন্ধু সোনারগাঁওয়ে ঘুরতে এসে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় দুইজন নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভ্রমণে গিয়ে এভাবে দুই কিশোরের মৃত্যুতে এলাকায়ও নেমে এসেছে শোকের মাতম।

