যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শোকাবহ পরিবেশ ও শান্তিপূর্ণভাবে নারায়ণগঞ্জে পবিত্র আশুরা পালিত হয়েছে। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল, মিলাদ-মাহফিল, দোয়া এবং তবারক বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কর্মসূচিগুলো সম্পন্ন হয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহর, বন্দর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে শোক মিছিল বের হয়। কালো পতাকা, ব্যানার ও ধর্মীয় প্রতীক বহন করে অংশগ্রহণকারীরা কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মরণে মাতম করেন। পরে মিছিলগুলো নির্ধারিত সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নিজ নিজ ইমামবাড়া বা নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, সত্য, ন্যায় ও আদর্শের শিক্ষা বহন করে। কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে সত্য প্রতিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে ন্যায়বিচার, মানবতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তারা।
তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণকারী ভক্তরা কারবালার শোকাবহ ঘটনাকে স্মরণ করে শোক প্রকাশ করেন। অনেক স্থানে দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণেরও আয়োজন করা হয়।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়, ইমামবাড়া, তাজিয়া মিছিলের রুট এবং জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা সদস্য ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে যাতে সবাই নির্বিঘ্নে কর্মসূচি পালন করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় পুরো জেলার আশুরার কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দিনব্যাপী নফল রোজা পালন, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও ইবাদতের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরার তাৎপর্য স্মরণ করেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আশুরার কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

