পুলিশের সোর্স পরিচয়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন সাদ্দাম নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, তথ্যদাতা পরিচয়ের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। তার এসব কর্মকাণ্ডে স্থানীয় প্রশাসনের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফতুল্লার এতিমখানা এলাকার মৃত নান্টু কসাইয়ের ছেলে সাদ্দামের বিরুদ্ধে অতীতেও মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ঘটনায় একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময় পুলিশের সঙ্গে চলাফেরা এবং অভিযানে অংশ নেওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করেছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো এবং মাদক ব্যবসার স্বার্থে বিরোধীদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেন তিনি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, ফতুল্লার এতিমখানা, ঢালীপাড়া, প্রেমরোড ও ধর্মগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন সহযোগীর মাধ্যমে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১০ জুন রাতে নবীনগর কবরস্থানের পাশ দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রুবেল ও সিফাত নামের দুই গার্মেন্টস কর্মীর পথরোধ করে সাদ্দাম ও তার সহযোগীরা। নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের কাছ থেকে নগদ ১ হাজার ৭০০ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
একই রাতে প্রেমরোড এলাকায় এক ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসায়ী পরিচয়ে আটক করে তার কাছ থেকেও নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই সময় অভিযানে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
স্থানীয়দের দাবি, সাদ্দামের নেতৃত্বে রাজা, রানা ও রনি নামের কয়েকজন সহযোগী পুলিশ পরিচয়ে রাতভর বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি চালিয়েছে। এর আগে ভোলাইল এলাকায় একই ধরনের ঘটনায় স্থানীয়দের হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারী হয়েও সাদ্দামকে প্রায়ই পুলিশের গাড়িতে চলাফেরা করতে দেখা যায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং পুলিশের প্রতি আস্থা কমছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “অপরাধ দমনের নামে যাদের ব্যবহার করা হয়, তাদের কেউ যদি নিজেরাই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে পুলিশ অনেক সময় সোর্স ব্যবহার করে থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সেই সুযোগের অপব্যবহার করে কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থে অপরাধচক্র গড়ে তোলে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বীদের ধরিয়ে দিয়ে নিজের অবৈধ ব্যবসা নিরাপদ রাখার কৌশলও অবলম্বন করে সাদ্দাম।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব জানান, সাদ্দামের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “পুলিশ পরিচয়ে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো সোর্স যদি চাঁদাবাজি বা অপরাধে জড়িত থাকে, তাহলে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।”

