নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রি-পেইড বিদ্যুৎ মিটার স্থাপনের উদ্যোগ বন্ধ এবং বিদ্যুতের বর্ধিত বিল প্রত্যাহারের দাবিতে গণঅবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সামাজিক সংগঠন “আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী”। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে শহরের কিল্লারপুল বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ নূরউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বদরুল হকের সঞ্চালনায় আয়োজিত কর্মসূচিতে শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, খানপুর, তল্লা, হাজীগঞ্জ, গোদনাইল, নিতাইগঞ্জ, শীতলক্ষ্যা, পাইকপাড়া, ভূঁইয়াপাড়া, ফরাজীকান্দা, জল্লারপাড়, নয়াপাড়া, বাবুরাইল, দেওভোগ, নন্দীপাড়া, গলাচিপা, চাষাঢ়া, মাসদাইর, জামতলাসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পোস্ট-পেইড মিটারের পরিবর্তে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা নানা ধরনের ভোগান্তি ও আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন বলে দাবি করেন তারা।
সভাপতির বক্তব্যে নূরউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রি-পেইড মিটার চালুর ফলে গ্রাহকদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহারে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি এই কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন মন্টু, সহ-সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ, হাজী রমজান উল রশীদ, এস এম শাহ আলম, যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম খান, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম জাগু, মাকিদ মোস্তাকিম শিপলু, পপি রানী সরকার, আনোয়ার হোসেন দেওয়ান, আব্দুল হালিম বেপারী, জাহাঙ্গীর কবির পোকন, হারুন উর রশীদ মিলন, জহিরুল ইসলাম মিন্টু, ফরিদ আহম্মেদ মুরাদ, মহিউদ্দিন মাহামুদ, আব্দুল মান্নান পটু, আব্দুল কাইয়ুম আল আমিন, সোহরাব হোসেন, বিমল কান্তি দাস, হাফিজুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, মিলন চৌধুরী ও কাওসার আহম্মেদ কাসেমীসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ খাতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের মাধ্যমে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচিও ঘোষণা করা হবে।
এসময় গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম সুজন, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট বিএম হোসেন, এসআই শাকিল, আব্দুল সাত্তার ভুট্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো. হোসেন জুলু, ওয়াহিদুজ্জামান জামান, রাজীউদ্দিন আহম্মদ, ইমরান শরীফ, খোরশেদা আলম লিপি খন্দকারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ বন্ধ এবং বিদ্যুতের বাড়তি মূল্য প্রত্যাহারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

