ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের সবাই মারা গেছেন। সর্বশেষ শুক্রবার (১৫ মে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গৃহকর্ত্রী সায়মা (৩২)। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরিবারটির বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে গেল।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সায়মার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিবারের অন্য সদস্যদের মৃত্যুর পর তিনিও শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বৃহস্পতিবার একই দিনে মারা যায় সায়মার দুই সন্তান। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে আইসিইউতে মারা যায় সাত বছর বয়সী ছেলে মুন্না। তার শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে মারা যায় তার বোন মুন্নি (১০)। চিকিৎসকদের ভাষ্য, শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি তার শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এর আগের দিন বুধবার সন্ধ্যায় মারা যায় পরিবারের আরেক সন্তান কথা (৭)। তার শরীরের ৫২ শতাংশসহ শ্বাসনালিও পুড়ে গিয়েছিল। আর পরিবারের কর্তা সবজি বিক্রেতা মো. কালাম (৩৫) মারা যান গত সোমবার সকালে। বিস্ফোরণে তার শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
গত ১০ মে সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে ভয়াবহ এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দম্পতি ও তাদের তিন সন্তান গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের পাঁচটি প্রাণ ঝরে যাওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

