ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ মহানগরীতে দীর্ঘদিনের ফুটপাত দখল সমস্যার সমাধানে হকার উচ্ছেদ অভিযানে দৃশ্যমান অগ্রগতি এসেছে। এ অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শাখাওয়াত হোসেন খান।
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকেই তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটিকরপোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই হকার ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেন তিনি। নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেন এবং তা বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন।
তার এ উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা। তাদের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরাও হকার উচ্ছেদ কার্যক্রমে সহায়তা করছেন।
গত ১৩ এপ্রিল থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়, যা এখনও চলমান রয়েছে। অভিযানের ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাতগুলোতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে, হকার পুনর্বাসনের দাবিতে বামপন্থী কিছু সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে নামলেও তাদের আন্দোলন তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের বিরোধিতার মুখে তাদের কর্মসূচি অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে।
নগরবাসীর দাবি, হকার উচ্ছেদের পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য পুনর্বাসন পরিকল্পনাও গ্রহণ করা প্রয়োজন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অধিকাংশ মানুষ।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, নাগরিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- নারায়ণগঞ্জ পাঁচ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর আহ্বায়ক নুরুদ্দিন আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাছুম, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সহ-সভাপতি রফিউর রাব্বি, বিকেএমএইএর সহ-সভাপতি সারোয়ার মোর্শেদ সোহেল, হোসিয়ারি সমিতির সভাপতি বদিউজ্জামান, জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনরে নারায়ণগঞ্জের প্রধান সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, তরিককুল সুজন, ফারহানা মানিক মুনা, খেলাফজ মজলিশের আনোয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের মাছুম বিল্লাহসহ অন্যরা।
নারায়ণগঞ্জ শহরকে হকারমুক্ত করে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নগরবাসীর স্বার্থে শহরকে গ্রিন ও ক্লিন রাখতে সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে। ফুটপাতে আর কোনো হকার দেখতে চাই না। অরাজক পরিস্থিতি আর কাউকে করতে দেওয়া হবে না। মানুষ ফুটপাতে নির্বিঘ্নে হাটতে চায়। ফুটপাতে হকার বসার চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
নারায়ণগঞ্জ পাঁচ আসনে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ পাঁচ আসনের জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচন করেছে। জনগণের কাছে আমাকে জবাবদিহি করতে হয়। সব দল ও স্থানীয় মানুষের সমর্থনের কারণে আজ ফুটপাতের হকার মুক্ত করা হয়েছে। তবে আমাদের প্রশাসনকে তৎপর থাকতে হবে যাতে ফুটপাতে আবার হকার বসতে না পারে।
তিনি বলেন, অনেকে সন্দেহ করছেন হকার একদিকে উচ্ছেদ হবে, কয়েক দিন পর আবার হকার বসে পড়বে। হকার বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স। কোনো অবস্থাতেই ফুটপাতে হকার বসতে দেওয়া হবে না।
তবে অভিযানের আগেই হকাররা তাদের মালপত্র সরিয়ে নেয়। ফলে সকাল থেকেই শহরের প্রধান সড়কের দুই পাশ অনেকটাই ফাঁকা দেখা যায়।
এর আগে সিটি করপোরেশন ১৩ এপ্রিল থেকে শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত করার ঘোষণা দেয়। এ লক্ষ্যে কয়েক দিন ধরে মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করা হয়।
অভিযানে অংশ নিতে দুপুরে বুলডোজার, ডাম্প ট্রাক ও ভেকুসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা চাষাড়ায় জড়ো হন। তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, র্যাব, স্কাউট সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও যানজট নিরসন কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, সংসদ সদস্য আবুল কালাম, সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত সিও নুর কুতুবুল আলমসহ সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন।

