নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সাহেব আলী (৪০) হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. রনিকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১১ ও এসআরবি-৮-এর যৌথ দল। গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। উদ্ধার করা অস্ত্রটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে এসআরবি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানার শাহজাহানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াবদা কলোনিতে তাঁর বাসায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এসআরবি-১১-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর বিকেল পৌনে ৬টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াবদা কলোনির ইত্তেহাদ টাওয়ারের সামনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় সাহেব আলীকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি সড়কের পাশের একটি খালে পড়ে গেলে সেখানেও তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহেব আলীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এসআরবি জানায়, ঘটনার পর তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সংস্থাটির দাবি, ফুটেজে সাহেব আলীকে লক্ষ্য করে রনিকে গুলি চালাতে দেখা যায়। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর ভিত্তিতেই শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংস্থাটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রনি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আটি ওয়াবদা কলোনিতে তাঁর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা পিস্তলটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে জানিয়েছে এসআরবি।
এদিকে, এ মামলায় এর আগে গত ১৩ অক্টোবর এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গ্রেপ্তার রনিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উদ্ধার করা অস্ত্রের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা এবং মামলার অন্যান্য বিষয় তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাইয়ের বিষয় রয়েছে।

