ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ শরীরের ওজনের পাশাপাশি চর্বির অবস্থানও ক্যান্সারের ঝুঁকি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্প্রতি দেখিয়েছে, শুধুমাত্র মোট ওজন বা BMI নয়, বরং কোন অংশে চর্বি জমছে তা বিশেষ ক্যান্সারের ঝুঁকিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষকরা ১২ ধরনের স্থূলতাসংশ্লিষ্ট ক্যান্সারের ওপর এই সম্পর্ক পরীক্ষা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে এন্ডোমেট্রিয়াল, ডিম্বাশয়, স্তন, কোলোরেক্টাল, অগ্ন্যাশয়, লিভার, কিডনি, থাইরয়েড, গলব্লাডার, মেনিঞ্জিওমা এবং মাল্টিপল মাইলোমা।
কেন চর্বির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ?
সাধারণ BMI শুধু ওজন ও উচ্চতার অনুপাত দেখায়, কিন্তু শরীরের চর্বি কতটা পেশির নিচে বা ত্বকের নিচে জমেছে তা বোঝায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় বা ভিসেরাল ফ্যাট—যা অঙ্গের চারপাশে জমে—সর্বাধিক ক্ষতিকর এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সব ক্যান্সারে একই প্রভাব নেই। কিছু ক্যান্সারে মোট চর্বি গুরুত্বপূর্ণ, আবার কিছুতে চর্বির অবস্থানই মূল প্রভাব ফেলে।
গবেষকরা মেন্ডেলিয়ান র্যান্ডমাইজেশন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এটি জেনেটিক ভ্যারিয়েশনের মাধ্যমে বোঝায় কার শরীরে জন্ম থেকেই কোন অংশে চর্বি জমার প্রবণতা বেশি। যেহেতু জিন জন্মের সময় নির্ধারিত, তাই এটি কারণ ও প্রভাবের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করতে সাহায্য করে।
চর্বি এবং ক্যান্সারের সংযোগ:
➡️ একই BMI থাকা সত্ত্বেও যদি একজনের ভিসেরাল ফ্যাট বেশি এবং আরেকজনের শুধু ত্বকের নিচে চর্বি থাকে, তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এক নয়।
➡️ চর্বির অবস্থান হরমোন, প্রদাহ, ইনসুলিন সিগনালিং এবং ইমিউন সিস্টেমের কার্যকারিতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
➡️ বিভিন্ন ক্যান্সার ভিন্ন ফ্যাট প্যাটার্নের প্রতি সংবেদনশীল, যেমন ডিম্বাশয় ক্যান্সার এক ধরনের এবং কোলোরেক্টাল ক্যান্সার আরেক ধরনের ফ্যাটে বেশি ঝুঁকিপ্রবণ।
গবেষকরা বলছেন, শুধুমাত্র ওজন কমানো বা BMI নিয়ন্ত্রণ করাই যথেষ্ট নয়। ক্ষতিকর চর্বি কমানো এবং শরীরের চর্বির বণ্টন বোঝা এখন গুরুত্বপূর্ণ। এই তথ্য ব্যবহার করে নতুন ওষুধ ও প্রতিরোধমূলক কৌশল উদ্ভাবন করা সম্ভব।
শরীরের চর্বি শুধু পরিমাণ নয়, অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ভিসেরাল ফ্যাট কমানো, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়াম ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

